Select Page
এসএসসি || সি জি এল || ব্যাংক|| রেল || প্রতিরক্ষা|| উ পি এস সি
ডাব্লু বি সি এস || এসএসসি (W.B) || প্রাইমারি || ফুট সাপ্লাই || মুর্শিদাবাদ জেলা আদালত || ডাব্লু-বি-পি (WBP-POLICE) || ডাব্লু বি পি এস সি

ডাউনলোড করুন Mylalgola অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

লালগোলা সম্বন্ধে

লালগোলা

ভারতের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছিল ‘বন্দে মাতরম্’। পরবর্তী কালে স্বাধীন ভারতবর্ষের জাতীয় স্তোত্রও। তবে। ‘বন্দে মাতরম্’ কবে প্রথম রচিত হয় সে সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় নিজে কিছু বলেননি। তবে ‘আনন্দমঠ উপন্যাস রচনার পুবেই মে ‘ন্দে মাতরম্ সঙ্গীতটি রচিত হয়েছিল, পরবর্তীকালে বঙ্কিমচন্দ্র তা ‘আনন্দমঠ উপন্যাসে যােগ করেন, এ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বহু দাৰি উঠে এসেছে। তবে একটি স্থান এ বিষয়ে অগ্রগণ্য। সেটি মুর্শিদাবাদ জেলার একটি প্রাচীন শহর, লালগোলা।

১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর। বঙ্কিমচন্দ্র তখন বহরমপুত্রের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। জোট থেকে পালকি চেপে আসছিলেন মাঠের মধ্য দিয়ে। সেই সময় মাঠে ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত গােরা সৈন্য ও তাদের দলের অধ্যক্ষ কর্নেল ডাকিন বঙ্গিমচন্দ্রকে অপমান করতে উদ্যত হলে মহারাজা যােগীন্দ্রনারায়ণ উচ্ছল গোৱা সৈন্যদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। বঙ্কিমচন্দ্রের সাথে মহারাঙ্গার পরিচয় তখনই। যােগীন্দ্রনারায়ণের সাহস দেখে তিনি মুগ্ধ হন। পরে আদালতে গােৱা সেমাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাতেহা সাক্ষ্য দেন। মামলা আপলে নিষ্পত্তি হয়। সেই সময় থেকেই দু’জনের ঘনিষ্ঠতা। এ পৱ মহাৱাজাৱ আমন্ত্রণে অতিথি। হয়ে লালগােলায় আসেন বঙ্কিমচন্দ্র। প্রায় তিন মাস এখানে ছিলেন তিনি। জানা যায়, ১৮৭৪ সালের এরা ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ঠা মে পর্যন্ত অসুস্থতা জনিত কারণে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি। যোগীন্দ্রনারায়ণ এ বঙ্কিমচন্দ্রের বন্ধুত্ব সম্পর্কে সম্পর্কের কথা। সাহিত্যিক হেমেন্দ্রকুমার রায় লিখেছেন, “দানবীর মহারাজা যােগীন্দ্রনারায়ণ রায় অবাঙালি হয়েও বাংলাদেশে এসে মনে প্রাণে খাঁটি বাঙালি হয়ে । গিয়েছিলেন। তিনি যে বাংলা সাহিত্যের কত বড় বন্ধু ছিলেন, সেকথা এনে নতুন করে বলবার দরকার নেই। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে তাঁর স্মরণীয় অবদান আছে। অসংখ্য সাহিত্যিক অলংকৃত করতো তার আসর। এমনকি সাহিত্যগুরু বঙ্কিমচন্দ্র পন্তি কিছুদিনের জন্য তার আতিথ্য। স্বীকার করে রাজবাড়িতে বসে রচনা করেছিলেন “আনন্দমঠের কিয়দংশ।”

১৮৭৪ সালের নেব্রুয়ারিতে বঙ্কিমচন্দ্র মন্থন লালগোলায়, সেই সময় মাঘী পূর্ণিমা তিথি সেখানে মহা সমারােহে পালিত হত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ধেকে দলে দলে সাধু আসহেন লালগােলার দেবালয়বেষ্টিত রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে। বঙ্কিমচন্দ্র তার “আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এই মাঘী পূর্ণিমা তিথিটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। লালগোলার সুন্দর পরিবেশে বঙ্কিমের মন শান্ত হয়। কিছু দিন আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতি মুছে গিয়ে মন অনেকটা শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু মনে মনে তিনি ইংরেজদের অশালীন প্রতাপের প্রতি ক্ষুব্ধই ছিলেন। ইংরেজ অতিসারদের জড়িয়ে এর আগে ঘটে যাওয়া আরও কিছু ঘটনা তাঁকে নাড়া দিচ্ছিল বার বার। বঙ্কিম অনুভব করেন, বঙ্গ তথা সমগ্র ভারতবর্ষের মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়ােজন। তিনি ব্লচনা করেন ‘ন্দে মাতরম্।

লালগোলায় ১২৮০ বঙ্গাব্দের মাগী পুর্ণিমা তিথির অনুষঙ্গ রয়ে গেছে গানটির দুটি পতি —“শু-জ্যোৎস্না-পুলকিত যামিনীম/ কুল্ল কুসুনিত-নদল শােহিনী।।” অর্থাৎ চন্দ্রের শুভ্র জ্যোজায় যখন রাত্রি পুলকিত, প্রসুটিত ভুল ও বৃক্ষের শােভায় চারিদিক শােভিত। পূর্ণিমা রাতে শুভ্র জ্যোজায় মােহিত হয়েই তার বর্ণনা লিখেছো বঙ্কিম। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই পূর্ণিমা রাত কি সেই ১৮৭৪ সাল অর্থাৎ ১২৮০ বঙ্গাব্দের মাঘী পূর্ণিমার রাত? অন্য কোনও পুনিমিও তাে হতে পারে! | বন্দে মাতরম’ গানের আরও একটি পক্তিতেও আছে বঙ্কিমের এই সেই গান রচনার সময়কালের প্রতি। তিনি লিখছেন, “স কোটি কণ্ঠ কল কল নিনাদ করালে,, এই সপ্ত কোটি লেখাটা কিন্তু নিছক কাব্যভাষা নয়। ১৮১ সালের জনগণনা অনুযায়ী বঙ্গদেশের জনসংখ্যা ছিল ৬ শেটি ৬৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬৫৭ জন।১৮৭৪ সালে যা স্বাভাবিক ভাবেই এসে দাঁড়ায় ২ কোটিতে। পেশায় যিনি এক জন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, জনগণনার সমস্ত তথ্য ও রিপাের্ট তার নখদর্পণে থাকবে, জানা কথা। এ জন্যই তিনি গানে লিনেহিলেন ‘সপ্ত কোটি ক’।কিন্তু ওই ১৮৭৪ সালের শেষের দিকেই আমাৰ দুর্গোৎসব’ রচনায় তিনি লিখছেন, “তােমার শী বলিয়া ডাকি মা? এই ছয় কোটি মুশু ঐ পদপ্রান্তে লুষ্ঠিত করিব, এই হয় কোটি কণ্ঠে ঐ নাম করিয়া দুস্কার করিব…” এখানে আবার তিনি বলছেন হয় কোটি জনসংখ্যার কথা। তা হলে কোনটি ঠিক? বন্দে মাতরম গানে নাচনাকাল ও উৎস সম্পর্কে জ্ঞানীশ ভট্টাচার্য তাঁর লেখায় এক নতুন প্রশ্ন তুলেছেন।

১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ভরিতে সর্বপ্রথম লোকগণনা হয়। এ সময় বাংলা বলতে বােঝাত বাংলা, বিহার, ওড়িশা, ছােটনাগপুর ও অসম নিয়ে গঠিত, এক লেকটেন্যান্ট গভর্নরের শাসনাধীনে রক্ষিত “বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে। ‘বঙ্গদর্শন’-এর প্রথম বর্য দ্বাদশ সংখ্যায় (মার্চ-এপ্রিল ১৮৭২খ্রিস্টাব্দ) ‘বঙ্গদেশের লােকসংখ্যা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে এ সম্পর্কে নানা তথ্য জানা যায়। এ সময় বেঙ্গল প্রেসিভেন্সি’র মােট লোকসংখ্যা ছিল। ৬,৬৮,৫৮,৬৫৬ জন অর্থাৎ প্রায় সাত কােটি। বলা বাহুল্য, এর মধ্যে বাঙালি-অবাঙালি, হিন্দুমুসলমান প্রভৃতি নানা ধর্ম ও ভাষাভাষী মানুহৰ আছে। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে অসম এবং বঙ্গভাষাভাষী সিলেট, কাহাড় ও গোয়ালপাড়া— এই তিনটি অঞ্চলকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নতুন একটি প্রদেশ গঠন করা হয়। ১২৮১ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (১৮৭৪, অক্টোবর) বঙ্গদর্শন’-এ ‘আমার দুর্গোৎসব’ প্রকাশের সময় সিলেট, কাছাড় ও গােয়ালপাড়া বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তার লােকসংখ্যা ৬ কােটি ৬৮ লক্ষ থেকে বেশ কয়েক লক্ষ হ্রাস পেয়েছে। সুতরাং এ দিক থেকে আমার দুর্গোৎসব’-এর ছয় কোটি তথা ঠিকই আছে। তা হলে ‘বন্দে মাতরম’-এ “সপ্ত কোটি’ কেন? ১৮৭১এ লােকগণনার হিসাবে বাংলার লােকসংখ্যা সাত কোটি। ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ লােক বঙ্গভূমি লোকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন, আমার দুর্গোৎসব’-এও লেখক তা মেনে নিচ্ছেন। তা সত্ত্বেও ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৬ খ্রিস্টাম্পের মধ্যে যে সময়ে কন্দে মাতরম’ রচিত। হােক না কেন, তার মধ্যে বাংলার লােকসংখ্যা সাত কোটি হওয়া অসম্ভব। জগদীশ ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, তা হলে কি ‘বন্দে মাতরম্’ ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দেরবনে এবং আমার দুর্গোৎসব’-এর আগেই রচিত?

১৮৭৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলার গভর হয়ে আসন স্যর রিচার্ড টেম্পল। ওই বছরেই ৯ এপ্রিলের পর প্রশাসনিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অসনকে তিনি বাংলা প্রদেশ থেকে আলাদা করে দেন। পূর্ববঙ্গের হট্ট, কাছাড়, গােয়ালপাড়া ও গারাে পাহাড়ে উওর ‘শ্রংশকে অসম প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করেন। কলে বাংলা ভাষাভাষী বহু মানুষ রাতারাতি অসমের অধিবাসী হয়ে যান। ফলে বছরের শেষে বাংলার জনসংখ্যা দাড়ায় প্রায় ছয় কোটিতে। সে। জন্যই আমার দুর্গোৎসব’- এ বঙ্কিমচন্দ জনসংখ্যার তথ্যে দু’কোটি লিখেছিলেন। দেখা যাচ্ছে, ১৮৭৪২৩ এরি মধ্যে আর কোনও সময়েই সংখ্যা সাত কোটি পৌছচ্ছে না। এই বাস্তব তথ্যই আসলে নির্দেশ করছে— ‘ন্দে মাতরম’ গানটি লেখা। হয়েছে ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসের আগেই।। কলে ডাকিনের সঙ্গে ওই ঘটনার পর তিনি যে ১৮৭৪-এর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ঠা মে পর্যন্ত। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুটি নেন, তা তাে আগেই বলা হয়েছে। এই সময় তিনি লালগোলায় মহারাজা যােগীন্দ্র নারায়ণের অতিথি, তাও জানা। তাই ‘ন্দে মত রচনার সময়কাল সম্পর্কে বলা যায় যে গানটি ১২৮০ বঙ্গাব্দের মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে (১৮৭৪-এর জানুয়ারি-শেয়ারি) মাসে লেখা হয়েছিল। যেহেতু তিনি সেই সময় মহারাজার আতিথ্যে ছিলেন, তাই এই গানের রচনাস্থল মুর্শিদাবাদের লালগােলা, বলাই বাহুল্য।






নীতিমালা ।। পোস্ট কিভাবে লিখবেন ।। সাইটম্যাপ



উপরে ফিরে যাও

DMCA.com Protection Status
<